শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষিত ও ভালো মানুষ বাড়াতে হবে ◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের অর্থায়নে ২ শতাধীক পরিবারের বস্ত্র বিতরণ ◈ আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ আটক ১০ ◈ গাজীপুর মহানগর চাপুলিয়া মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে মোহাম্মদ নূরুল হক খান প্যানেল বিজয় ◈ বরুড়ায় ক্ষুদে কবি সবুজের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ টঙ্গিবাড়িতে কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ◈ তাহিরপুর পাটলাই নদীর তীরে মজুদ করা দুই মেট্রিকটন অবৈধ কয়লা জব্দ করেছে বিজিবি ◈ রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলায় জড়িত কালা বাচা আটক ◈ মোহনপুরে শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ করলেন এম.পি আয়েন উদ্দিন ◈ চকরিয়া পৌরশহরের পেঁয়াজের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

নগদ অর্থ উদ্ধারে বেড়েছে উদ্বেগ

প্রকাশিত : ০৭:০১ পূর্বাহ্ণ, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১২৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ পথে কামানো শত শত কোটি টাকা পাচার করতে সিন্দুকে রাখা হচ্ছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারী এ পাচারে নেমেছে। সম্প্রতি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাসা ও অফিসে মিলছে কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার। পাচার করতে নগদ অর্থ হাতে রাখার বিষয়টিতে উদ্বেগ বাড়ছে। তাছাড়া অর্থ হাতে রাখার প্রবণতা বাড়ার কারণে তারল্য সংকটে পড়ছে ব্যাংক ব্যবস্থা। বড় অঙ্কের অর্থ হিসাবের বাইরে থাকায় নষ্ট হচ্ছে অর্থ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য। ব্যাংকিং সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কয়েক দিন ধরে চলা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বাসা এবং অফিস থেকে মিলেছে শত শত কোটি টাকা। পাওয়া গেছে শত শত ভরি স্বার্ণালংকারও। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এত পরিমাণ নগদ অর্থ নিজের সিন্দুকে কেন? ব্যাংকিং চ্যানেলে কেন আনা হয়নি বিপুল পরিমাণ অর্থ! মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উদ্ধারের পর বেড়েছে উদ্বেগ। বিশ্লেষকদের ধারণা, পাচার করাই ছিল ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থ রাখার উদ্দেশ্য। অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংক ব্যবস্থায় এলে প্রশ্ন ওঠার ভয়ে তা আনা হয়নি। তাই ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে বাড়ছে নগদ অর্থের প্রবাহ।
মূলত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থই রাখা হচ্ছে নিজের জিম্মায়। ব্যাংকিং চানেলের বাইরে টাকা রাখার প্রবণতা বা ‘কারেন্সি আউটসাইড ব্যাংকিং হিসাব’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের থেকে বেড়েছে অর্থ রাখার পরিমাণ। দুই অর্থবছরের তুলনা করলে দেখা যায়, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে ক্যাশ টাকা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেড়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেটা বেড়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগের বছরে এর প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ, এখন বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশের বেশি। অর্থ হাতে রাখার প্রবণতা বাড়ার কারণে তারল্য সংকটে পড়ছে ব্যাংক ব্যবস্থা। বড় অঙ্কের অর্থ হিসাবের বাইরে থাকায় নষ্ট হচ্ছে অর্থ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য।
কয়েক বছরে পাচারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে বাড়ছে অর্থ জমার পরিমাণ। অর্থাৎ বাংলাদেশিরা বিদেশে অর্থ নিচ্ছেন বেশি। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁ; দেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। ঠিক এক বছর আগে, এ অঙ্ক ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ বা ৪ হাজার কোটি টাকা। মাত্র ১২ মাসে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এর আগে, কোনো বছর, একলাফে এত বাড়েনি আমানত।
এদিকে কয়েক দিনের অভিযানে স্পষ্ট হয়েছে টাকা হাতে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। গুলশানের নিকেতনে ঠিকাদার জিকে শামীমের অফিস কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া ৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার এবং ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার এফডিআরও উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে এনামুল হক ও রুপন ভূঁইয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিন্দুক থেকে নগদ ১ কোটি ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ৭২০ ভরি স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত চলা অভিযানে বিভিন্ন ক্যাসিনো, ক্লাব, অফিস এবং বাসাবাড়ি থেকে বিক্ষিপ্তভাবে উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ক্যাসিনো থেকে উদ্ধারকৃত কয়েকটি সিন্দুক বহু চেষ্টার পর এ পর্যন্ত খোলাই সম্ভব হয়নি।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ইনফরমাল ইকোনমির লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে হয় না, সিন্দুকে অর্থ রাখার এটা একটা বড় কারণ। এছাড়া ব্যাংকের ওপর আস্থার ঘাটতি হলে নিজের কাছে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, হাতে অর্থ থাকলে অবৈধ ব্যবসা যেমন ড্রাগ বা অস্ত্র ব্যবসায় লেনদেনে বেশি করা যায়। আবার বিদেশে নেওয়ার আগে টাকা ব্যাংক থেকে বের করে নিলে সমস্যা হতে পারে সে কারণেও হাতে টাকা রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, চলমান ঘটনায় যে অর্থ উদ্ধার হয়েছে তার উৎস খতিয়ে দেখতে হবে। এখানে যারা সম্পৃক্ত, যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের টাকার উৎস দেখতে হবে। এগুলো বিভিন্ন ঠিকাদারি সরকারি কাজের টাকা। গণপূর্ত বিভাগ, অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ঠিকাদারি কাজ থেকে তারা টাকা সরিয়ে নিচ্ছে এবং এখান থেকে রাখা টাকা নিজের কাছে রাখছে। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনের সহায়তার মাধ্যমে এসব টাকা ঠিকাদাররা সরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ পথে এসব টাকা অর্জন করে তারা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে দেশেই বিক্রি করছে। এভাবে তারা টাকা বৈধ করছে। টাকা দেশের ভেতরে থাকলেও অর্থনীতিতে কোনো উপকার হচ্ছে না। এটা বন্ধ না করলে স্থায়ী কোনো সমাধান হবে না। অর্থ পাচার করে তারা বিভিন্ন দেশে বাড়ি, দোকান কিনছে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
গবেষণা সংস্থা, পলিসি রিসার্চ ইনষ্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, মানি আউটসাইড ব্যাংক অর্থাৎ ব্যাংক খাতের বাইরে যে টাকা আছে সেটা উন্নত দেশে খুব কম থাকে। কারণ তাদের টাকা বাইরে রাখার দরকার নাই। কিন্তু এদেশের মতো দেশে টেকনোলজিকাল ব্যাকওয়ার্ড এবং লেবেল অফ করাপশনের কারণে টাকা অনেকে নিজের কাছে রাখছে। কারণ দুর্নীতির টাকা নগদে লেনদেন হয়। এজন্য যতদিন দুর্নীতি থাকবে ততদিন ব্যাংক চ্যানেলের বাইরে টাকা থাকবে। তবে এই টাকা এফডিআর, রিয়েল এস্টেট বা যে কোনো উপায়ে ব্যাংকে চলে আসে। অথবা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বেআইনি পথে উপার্জিত টাকায় ক্যাসিনোতে বিনিয়োগ হচ্ছে। আইনগতভাবে কেউ ট্যাক্স দিচ্ছে না। এ টাকাগুলোয় বিদেশে পাচার হয়ে যায়। কারণ তারা জানে দেশে চাপে পড়লে কোনোভাবে যদি বের হয়ে যেতে পারে তাহলে বিদেশে যেন ভালোভাবে থাকতে পারে তারা। এজন্য অবৈধ উপায়ে টাকা আয় করলে সেটা সবাই সরিয়ে ফেলতে চায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি radio-lalon'কে জানাতে ই-মেইল করুন- @gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

radio-lalon'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। radio-lalon | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT