শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষিত ও ভালো মানুষ বাড়াতে হবে ◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের অর্থায়নে ২ শতাধীক পরিবারের বস্ত্র বিতরণ ◈ আখাউড়ায় বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ আটক ১০ ◈ গাজীপুর মহানগর চাপুলিয়া মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে মোহাম্মদ নূরুল হক খান প্যানেল বিজয় ◈ বরুড়ায় ক্ষুদে কবি সবুজের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ◈ টঙ্গিবাড়িতে কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ◈ তাহিরপুর পাটলাই নদীর তীরে মজুদ করা দুই মেট্রিকটন অবৈধ কয়লা জব্দ করেছে বিজিবি ◈ রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক মামলায় জড়িত কালা বাচা আটক ◈ মোহনপুরে শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ করলেন এম.পি আয়েন উদ্দিন ◈ চকরিয়া পৌরশহরের পেঁয়াজের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

কীভাবে বাঁচবে খেলা

প্রকাশিত : ০৭:০১ পূর্বাহ্ণ, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১০৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

এক সময় আড্ডায়-আলোচনার বিষয় ছিল আবাহনী-মোহামেডানের ধুন্ধুমার ফুটবল লড়াই। তখন এ দুদলের লড়াইয়ে দেশ আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যেত। এরপর একে একে গড়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র, আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাবসহ অসংখ্য ক্লাব। ঢাকার মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, হকির জমজমাট লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ত সারা দেশের মানুষের মনে। সে সময় কিশোর-তরুণদের স্বপ্নই ছিল বাদল রায়, কাজী সালাউদ্দিন কিংবা মোমেন মুন্না হওয়ার।

ঢাকার ক্লাবগুলোর সে রমরমা হারিয়েছে দুই দশকের বেশি সময় হলো। এখন এসব ক্লাবে খেলার নামগন্ধই নেই। ক্যাসিনো, হাউজি আর মাদকের জঞ্জালে ছেয়ে গেছে। দল গড়ার টাকা জোটে না অথচ শত শত কোটি টাকা এসব ক্লাবের বসানো ক্যাসিনো থেকে পাচার হচ্ছিল। এসব ক্রীড়া ক্লাবের নেতৃত্বে খেলাধুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নেই। পুরোটাই সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা আর লুটেরাদের দখলে চলে গেছে।

ফলে উঠতি কিশোর বা যুবসমাজের সুস্থ বিনোদনের অভাবে ঝুঁকে পড়ছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরিতে হলেও বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন এসব দুর্বৃত্তদের সরিয়ে ক্লাবগুলো আবার আগের রুপে ফেরাতে হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এনে যুবসমাজকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াভিত্তিক সমাজ। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ক্লাবপাড়া-খ্যাত মতিঝিলের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ইয়ংমেন্স ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংসহ বিভিন্ন ক্লাবে হাড় কঙ্কাল বেরিয়ে আসে। ফাঁস হয় রমরমা ক্যাসিনোর ভয়ঙ্কর সব তথ্য। যুবলীগ নেতা, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্লাব কমিটির নেতারা ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন। তারা হাজার কোটি টাকা আয় করেছেন এর মাধ্যমে। বছরের পর বছর এসব অপকর্ম চললেও খেলাধুলার ছিটেফোঁটাও ছিল না তাদের মনে। মৌসুম শুরু হলে দল গড়া বা সাধারণ মানের খেলোয়াড় কেনার টাকাও ছিল না তাদের। অথচ প্রতি রাতে এসব ক্লাবে কোটি কোটি টাকা উড়েছে।

অধিকাংশ ক্লাব ফুটবল, হকি বা ক্রিকেটে লীগ শিরোপা জিততে পারে না বছরের পর বছর। এমনকি খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতাও বকেয়া থেকে যায়। যেখানে একসময় খেলোয়াড় আর সমর্থকের ভিড় জমজমাট করে রাখত, সেখানে সন্ধ্যা নামলেই জুয়ার নেশায় ভিড় করেন কলেজছাত্র থেকে শুরু করে বিত্তবান বা মধ্যবিত্তরা। এসব ক্লাবের স্বনামধন্য সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রাও বর্তমান কর্মকাণ্ডে অস্বস্তিতে রয়েছেন। ক্ষুণ্ন হচ্ছে তাদের ভাবমূর্তি। তারাও এর আশু প্রতিকার চাইছেন।

জানা গেছে, প্রথমদিকে ক্লাবে প্রাথমিক পর্যায়ে জুয়ার চল থাকলেও এদিকে থাবা বাড়ায় বিভিন্ন আমলের রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। নানা চলচাতুরীতে তারা একের পর এক ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। কোনঠাসা হয়ে নেতৃত্ব থেকে সরে যান সাবেক তারকা খেলোয়াড় বা সংগঠনকরা। এরপর ঘুরতে শুরু করে ক্যাসিনোর চাকা। রাতের আঁধারে উড়তে থাকে টাকা। বিভ্রান্ত যুবসমাজ সবুজ মাঠের বদলে বিপথগামী হতে শুরু করে।

এদিকে ক্যাসিনোকাণ্ডে তোপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের পর বছর এসব অপকর্ম নির্বিঘ্নে চললেও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু জানতো না এটা অবিশ্বাস্য। তাদের নজরদারির অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবে আজকের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সরকারি ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তারা বলছেন, ক্লাবগুলো নিয়ন্ত্রণের রাশ ক্রীড়া পরিষদের হাতে থাকে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংস্কার করতে হবে। এ বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে বলেও জানান তারা।

কাসিনোকান্ডে সবচেয়ে হতাশায় পড়েছে কিশোর ও যুবসমাজ। একসময় উঠতি বয়সের যুবকরা মোনেম মুন্না, মো. আসলাম, বাদল রায়, গাজী সালাউদ্দীনের মতো ফুটবল তারকা হওয়ার সপ্ন দেখতেন। কিন্তু উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব, ক্লাবগুলোর নানা অপকর্মের ফলে মাঠ থেকে দূরে সরে গেছে তরুনরা। ফলে বিভ্রান্ত অনেক তরুন মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন।

ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা মনে করছেন, এসব অপকর্মের হোতাদের ক্লাব থেকে বিদায় করতে হবে আগে। তারপর স্ব স্ব ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও দক্ষ সংগঠকদের নেতৃত্বে আনতে হবে। পাশাপাশি দরকার সরকারি নজরদারি। তাহলে আবার ৯০ দশকের সোনালী দিন ফিরে আসবে ক্রীড়াঙ্গণে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি radio-lalon'কে জানাতে ই-মেইল করুন- @gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

radio-lalon'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। radio-lalon | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT